এক.
আজ দিল্লিতে বিস্ফোরণ আর প্রণব, আমার বন্ধু, বলল, চেঙ্গিস খাঁ ও আলেকজান্ডারের আক্রমণ ভঙ্গি নাকি একই ছিল। দুজনেই অ্যারোশেপড কনফিগারেশন ফলো করতেন; এতে সোর্ড ফাইটিং অনেক সুবিধাজনক ও অপ্রতিরোধ্য হত।
আবার আজকেই এই হায়দ্রাবাদ শহরে গভীর রাতে আমি নিশ্ছিদ্র পুলিশি সতর্কতা এড়িয়ে ব্ল্যাকে মদ কিনি। গণেশ বিসর্জন হেতু আজ ড্রাই ডে। ঢাকের আওয়াজ কানে আসতে থাকে সাথে টহলধারী ভ্যান, সাইরেন, তেলেগু ও হিন্দি মিশ্রিত রুক্ষ ভাষা, দরদাম, এটিএম ইত্যাদি।
এখানে যত বিধিসম্মত সতর্কীকরণ তাতে ইনসিকিউরিটিই বড় প্রবল বলে মনে হয়। একটা ভয় ও আশঙ্কাই আমাদের ওপর প্রভাব ফেলে যাচ্ছে আর উপমহাদেশে এই সব জাগতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরালো হয়ে উঠছে। আড়ালে; গোপনে।
হাঁশফাঁশ করে উঠছি। তন্দ্রাঘোর ভাঙছে। দূর থেকে ভোরের আজান আর নরম রোদ, সুতরাং হাত-পা পিছমোড়া করে বাঁধা যে ভেবেছিলাম তা আদপে ভোররাতের স্বপ্ন! ওঃ কী কোলাহল উঠে আসছে হৃদ-নাভি জুড়ে...
দুই.
বহুগামিতা আমার গ্রন্থিতে ছিল মাননীয় আর সাগরিকা কেবল খোলা ডিঙি। হাল-দাঁড় কী প্রয়োজন যখন নাকি আর কোনো গন্তব্যই নেই! শুধু মাথা রাখার মতো আশ্রয়। কোলখানি ভরে আছে দেয়ালায়।
গন্ডির মধ্যে এক বুড়ো কাতলা। জালের মধ্যে চিকচিক করছে আঁশ। মাঝি-মাল্লার এবার গান হবে, খুড়ি ভরে উঠবে ধেনো-তাড়ি আর জেলেপাড়ার ভুজঙ্গী নাচবে। আঁচল খসবে, কোমর খেলবে, পুরোনো ঘাঘরার নোনা গন্ধ সারারাত ওদের মাতাল রাখবে।
ভোর রাতে মাল্লারা ঘুমে-ঘোরে, কষ বেয়ে লালা, তাদের গাময় গন্ধমাটি, তখন ভুজঙ্গীকে দেখা যায় হুক খুলছে-দুধ দিচ্ছে। ভরাট যুবক আসিয়াছে ঘরে। কষ বেয়ে কাঁচা দুধ, যুবকের চুল খামছে ভুজঙ্গী আর কোমর জড়িয়ে যুবক। কোথায় খেলছে তার আঙুল? পেলভিসে; রিইগনাইটিং দ্য প্যাশন!
তিন.
যখন বেদান্তের সারাংশ পড়ছিলাম, সে অনেকদিন আগেই হবে, তখন 'মায়া' এই অধ্যায় আমায় বারবার টানছিল। বিবেকানন্দের প্রাঞ্জল ভাষায় 'মায়া' অংশটি কী অপূর্ব লেগেছিল আমার! সবই 'মায়া' এই বোধ আমায় এখনও তাড়া করে ফেরে আর ঘুরে ঘুরে আমি জাহ্নবী-যমুনায় গলে যাচ্ছি। এত অব্ধি যা যা অতিক্রান্ত হল তার একটি তালিকা এবার প্রস্তুত করার কথা ভাবছি।
সমস্ত স্থানিক ফ্রেম আমি পিছু মুড়ে আর একবার দেখে নিচ্ছি যখন কিনা সীমান্ত আমার সামনে। দিগন্ত বিস্তৃত নো ম্যান'স ল্যান্ড কাঁটাতারের ওপারে আর অমৃত আলো পড়ে আছে সেথায়। উপজাতি গ্রাম মিলিয়ে আসছে। এবার শুধু কাঁটা ঝোপ, উটের চলাচল চিহ্ন আর বালি ক্রমশঃ গরম হয়ে উঠছে পায়ের নিচে। ন্যূনতম পোশাক আমি রাখছি।
মনে পড়ে শেষ দেখেছিলাম বুড়ো বেহালাবাদককে। তার সাথে আমার সামান্য কথোপকথন হয়েছিল আর আননোন কোনো ফোক বাজিয়েছিল সে।
ভুজঙ্গী স্নান সেরে উঠে আসে ডিঙি নৌকার পাশ ঘেঁষে। উপকূলে থেকে যায় ওর পায়ের এলোমেলো চিহ্ন। কখনো কেউ যদি ফলো করে।
ঘুমের মধ্যে পাশ ফেরার শব্দ। নরম আলো খোলা জানলায়। ঘন্টাধ্বনি ওই প্রান্তিক গির্জায় আর সমস্ত স্থানিক অবস্থান ছেড়ে আমার তন্দ্রাঘোর ভাঙছে...
রচনাকাল: ২০০৮
বই: কলকাতা ব্লুজ, জুলাই, ২০০৯
কলকাতা ব্লুজ বইতে লেখাটার শিরোনাম ছিল ‘থার্ড ওয়ার্ল্ড ফোক’
No comments:
Post a Comment