বসন্তস্মৃতি, বুয়েনস আইরেস # এপ্রিল, ২০১৮


এসব কবিতা লেখা হয়নি কোন বসন্তেই

ঋতু আসে ঋতু যায়​
আমি জেগে থাকি
কিম্ভুত সময়ের অনন্ত হাঁ এর ভিতর​
আকস্মিক বিষন্নতায় একা

অনাবিল আনন্দের অনুভবে
এসব ধ্বনিরা বাজে
ধারাল শব্দের করাতে
ঝরে প​ড়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম​
ঋতুর সমস্তটা জুড়ে যখন​
তাজা এক ক্ষরণের উল্লাস​

বসন্ত চলে গেলেও চাম​ড়ায়
থেকে যায় সোহাগের গাঢ় কালশিটে


সে বসন্তে ফুল তুলিনি ভোরবেলা
শুধু হাত বাড়িয়ে তুলে নিয়েছি
গতরাতে খুলে রাখা কুঁচকানো জামা

চোখে জলের ঝাপ্টা দিতে গিয়ে
টের পেয়েছি কব্জিতে লেগে থাকা
অন্য কোন গন্ধ​, শরীরের​

বসন্ত এলে পরেই বন্দর আরও সতেজ হয়ে ওঠে
আকাশ ঝলমল
সাথে হৈচৈ মাচিয়ে দলবল মিলে
পর্যটক​

খেলা হয়নি রঙের কোন উৎসব​
তবে শরীর জোড়া উল্লাসে রঙের ঝিলিক ছিল লেগে ​
যেমন মনের গভীরে ছিল বুঁদ একটা নেশা

এ বসন্তে গিয়েছিলাম সমুদ্রের ধারে
বন্দরের কাছেই

জলেই দেখেছি আমি মন মজে বেশি
শরীরে শরীরও জমে খুব​
যখন বাতাসে ভাসে লোনা আমিষ কোন গন্ধ​

ঘ্রাণ নিয়েছি আমি নুন, বালি, আঁশ ও স্বেদের​
আদপে সবই তো জমে
শরীরের ওপর, এই নশ্বর​

না, অবিনশ্বর কিছু ছিল না এ বসন্তে
কোনো বসন্তেই কি ছিল​?
শুধু চিরহরিৎ এ বেঁচে থাকা

এক বসন্ত কেটে গেল লাগামহীন​
ঘামে-ঘ্রাণে-ঘোরে


দিলে এক ধুম লেগে আছে
বসন্তের রঙিন মেহেফিলে

আলো-আঁধারির এক কোনে
এই স্নিগ্ধ ডিনারের অয়োজন​
দারুন গেলাশ চুঁইয়ে ভরে উঠছে
কোয়া কোয়া সুরা

মোমবাতি জ্বেলে এই তো সামান্য অপেক্ষা

যখন
তোমার স্নানের শব্দে মিশে যাচ্ছে
ঝলসানো মাংসের সুঘ্রাণ​


এ বন্দরে, দ্বিতীয় বসন্তে দেখেছিলাম তাকে

একট স্নিগ্ধ হাসি
আর নদীর মত শরীর​
ত্বকের ওপর ছ​ড়িয়ে ছিল
ফুরনো বিকেলের রোদ​

একটা অলাপ থেকে বিচ্ছেদ​
পুরোটা জুড়েই তো দুটো তরতাজা মন​
কোনদিন ফিরে অসবে না আর​
এমন সব মুহুর্ত​
ছোট ছোট রাগ আর কষ্ট​

এ বসন্তও চলে গেল কিছু আগে

অনেক আগেই তো
হারিয়ে ফেলেছি তাকে, এ বন্দরে


গত বসন্তে বাতিল হল​
পুরনো কিছু পোশাক​
রঙহীন, অনুজ্জ্বল​

এসব জুড়ে ছিল রঙিন কিছু স্মৃতি
আর ভালোবাসা উজ্জ্বল​

প্রতিবার বসন্ত আসে বছর শেষে
একটু একটু করে পুরনো হ​য়ে যাই
আমি আর বন্দর​

প্রতি বসন্তেই বাতিল হ​য়ে যায়​
পুরনো কিছু পোশাক​
পুরনো দিনকাল​

No comments:

Post a Comment