টাগ অব্‌ ওয়ার # ২০০৭

এক।


স্ট্যাপের দাগ। বসুন্ধরার পিঠে। বিন্দুঘাম। তাই দেখে ব্রহ্মাতালু উন্মাদ। চামড়ার বাদামীতে ব্রা এর লালে লাল হয়ে ওঠা দেখে আর হুক খুলতে চাইছিল না রুস্তম। কিন্তু বসুন্ধরার ভাঁজ থেকে তিলের দূরত্বে... না রুস্তম হুক খুলল, আর তখনই স্ট্যাপের দাগ। বিন্দুঘাম...


রোদ ফিকে হয়ে আসছে। জনশূন্য বিচের এদিকটা। সামনে শ্মশান। পোড়াকাঠ ছুঁয়ে ছুঁয়ে নোনা জল, আর নিশ্চিন্ত ঝাউবনে ওরা দুজন। ঘনিষ্ঠতা ভেঙে রুস্তম ওঠে। বসুন্ধরা হাল্কা টান মারে ওর হাতে। তালুতে তালুবন্দী রুস্তম ওর ঠোঁটে আঙুল রাখে ও পুরোপুরি উঠে বসে। 

হাল্কা সিপে বিয়ার খায়। পরিত্যক্ত নৌকার কোল ঘেঁষে দুজন অর্ধনগ্ন এলিয়ে আছে মৃদু আমেজে। রুস্তম একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে ঢেউগুলোর দিকে। এখানে ছোটো ছোটো ঢেউ। অনেক দূরে চলে যায় সমুদ্র সকালের দিকে। এখন আবার বিচের অনেকটা গ্রাস করে নিয়েছে। ফ্যানা ফ্যানা ভাঙা ঢেউগুলোর দিকে তাকিয়ে রুস্তমের মনে হতে থাকে সে বসুন্ধরাকে কখনোই কন্ট্রোল করতে পারে না! কি বিছানায়;কি এই নিরাপদ ঝাউবনে। কিচ্ কিচ্ পাখির শব্দ ক্রমে গাঢ় হয়ে ওঠে।


দুই। 


এখানে নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না। দুজনেরই মোবাইল তাই সুইচড্ অফ। আপাতত ওরা সংযোগবিহীন। মেট্রোপলিটন থেকে নিরিবিলি এই সৈকতের আলাদা একটা টান আছে। রোমাঞ্চ আছে। গত বছর এসে রুস্তমের তাই মনে হয়েছিল। এবারে তাই সঙ্গে বসুন্ধরা।

এখন ট্যুরিস্ট খুব কম। সবকিছু হিসেব করেই রুস্তম এসেছে। উইকেন্ডে তাও একটু লোক হয় কিন্তু উইকডেজে তো কথাই নেই। আজ বুধবার। ওরা গত কাল এসেছে।


বিচে কী অদম্য কাঁকড়া! এদের রং উজ্জ্বল লাল। পায়ের শব্দ পেলেই ঢুকে যায় গর্তে। না হলে লাল করে তোলে কাদা কাদা বিচ। হলুদ, মেটে ও লালে এক অপূর্ব কনট্রাস্ট। বসুন্ধরাই এটা প্রথম লক্ষ্য করে। মানে এই কনট্রাস্ট। রুস্তমকে বলে "কী অপূর্ব না? অদ্ভুত কনট্রাস্ট।" রুস্তমকেও এই জীবন্ত কালার কম্পোজিশন খানিকটা তলিয়ে দেয়। 


ব্রা এর হুকটা আটকে দিতে বলে বসুন্ধরা। অন্ধকার হয়ে আসছে চারিদিক। জেলেদের পায়ের শব্দ খুব কাছে কোথাও। আলতো আলতো দুটো একটা পাতা ঝরে। টং করে শব্দ হয়। রুস্তম বিয়ারের বোতলটা ছুঁড়ে ফেলে। বসুন্ধরা বলে ওঠে ‘অদ্ভুত! ছোঁড়ার কী দরকার ছিল?’

‘প্রমাণ লোপ’ রুস্তম চোরা হাসিতে বলে। এরপর এক সশব্দ চুম্বন। সমুদ্র খুব আবছা দেখা যায়।


তিন। 


নৌকার খোলে খানিক জমা জল। রুস্তম আড়চোখে দেখে। পেচ্ছাব করে একটু দূরে গিয়ে। বসুন্ধরাকে এগিয়ে যেতে বলে। পায়ে পায়ে ধরে ফেলে ও কাঁধে হাত রেখে ওরা ঝাউবন থেকে রেয়ে আসে।


বিচ কিছুটা নিচে। ওপরে চালা দোকান থেকে দুটো চেয়ার এনে রুস্তম বসে। বসুন্ধরার চেয়ার খালি পড়ে থাকে। ও একটা মিনারেল ওয়াটার কিনছে। রুস্তম সামনে কাঠের টেবিলে চ্যাপ্টা নিপ্টা বার করে রাখে। ভ্যোদকা। দোকানের ছেলেটা দুটো গ্লাশ দিয়ে যায়। পমফ্রেট ফ্রাই এর আমিষ গন্ধ ভাসছে লোনা হাওয়ায়…


চার। 


বোতল শূন্যপ্রায়। শুধু বসুন্ধরার গ্লাশে তলানি। সমুদ্রের শব্দ ছাড়া আর কিছু নেই। এ এক অপূর্ব রিদম্।


  • তোমার কি মনে হয় আগের সেই উষ্ণতা আর নেই? রুস্তম নীরবতা ভাঙে। 

  • তা হয়তো নাও থাকতে পারে, তবে কোথায় যেন এক চোরা টান মনের গভীরে। বসুন্ধরার গলা জড়িয়ে আসছে।

  • সেক্স এক অনিবার্য প্রবাহ, বসু। আর আমি তো সম্পূর্ণ যৌনতার ওপরই নির্ভর করে সম্পর্ক গড়তে চেয়েছি। আমার বিশ্বাস ও ভ্রম সবই যৌনতাকেন্দ্রিক। এ আমি তোমায় আগেও বলেছি।

  • যৌনতা আমিও গ্রাহ্য করি, তবে তা হোক পরিশীলিত। শিল্পীত।

  • আমার কি তা নয়, বসু?

  • তা তো আমি অস্বীকার করি না, রুস্তম।


দূরে সমুদ্র আলতো উজ্জ্বল। চাঁদ যেন গলে ছড়িয়ে আছে। ঢেউ এর মাথাগুলো ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। এক উদ্দাম প্রবাহ ওই সমুদ্রে আর তীরবর্তী দুই সহবাসী মানুষের মধ্যে। অনন্ত মৈথুন জেগে থাকে উপকূলে। সব নিয়ে কোথাও যেন কোনো বাতিঘর…  



রচনাকালঃ ২০০৭

বইঃ নেপোলিয়নের নববর্ষ, জুলাই, ২০০৮


No comments:

Post a Comment