শাস্ত্রীয় সংগীত পর্বে # ২০০৯

রাই গুটিয়ে নিল; রেসপন্স হচ্ছে না আজ, শুধুই ক্লান্তি। ভাবছি, কোথাও কি তবে টিউনিং কাটছে! এক সপ্তাহ প্রায় ক্ষোভ জমে আছে; অভিমান, আক্রমণ, উফ্! আশ্চর্য রাই বোঝে না যে আমিও কত আক্রান্ত হচ্ছি, ক্ষয় কখনও একতরফা হয় না; উভয়েরই চড়া পড়ে; শ্লথ মন্থর এক জলাভূমি খা খা পড়ে থাকে। অথচ দাঁড় বাইব বলেই তো শরীর…


  • একটা কিছু চালিয়ে দিই বরং।

রাই ঘাড় নাড়ল। সমর্থন অথচ কোনো রা কাটল না। দেখলাম ওর নখগুলো যত্ন করে কাটা। মুখের কাছে তুলে এনে দেখছে পরিপাটি কিনা। 

ঘরের দেওয়ালের লেখা, ছবি এসবের দিকে তাকিয়ে ভাবছি, রাই কত নিভৃত নির্জন। কোলাহল ওকে ছুঁয়ে পিছলে যায় যেন। যেরকম আলো পড়ে পিছলে যায় আয়নায়। আমরা ভাবি আমাদেরই বিম্ব, তাই শার্শি। অথচ শার্শি ধ্রুবক। আলোও। শুধু মানুষ বদলে বদলে যায়। নিথর শার্শি যেমন একা পড়ে থাকে; রাইও তাই। অবয়বগুলি আসে ও যায় ওর সামনে।


গৎ চলছে। আর রাই চোখের ওপর হাত রেখে শুয়ে আছে।

সম্ভাবনা এমন এক বোধ যা ধীরে নিয়ে যায় উত্তরণের দিকে। যেমন আমি ও রাই। অসম্ভব কোনো বোধ যুগপৎ টের পেয়েছি গ্রন্থিতে। ফলতঃ এই বিকেলভরা রোদে গুপ্-গুপ্ শব্দ হয়। জলে। ভিতরে। 


রাইকে গুঁড়িয়ে নিই; ওর কাঁধে চাপ দিই, আর পাঁজরে আমার আলো ভাঙে। রোদের নির্যাস। রাই ঝকঝক করছে। ক্ষরণ আসবে; রাই আরও ঝেঁকে। আমি আরও যত্নবান…

শান্ত এলিয়ে যাচ্ছি রাই এর ওপর। বুকের ওপর। মায়ার ওপর। এলো একটা হাত শিথিল উঠে এল আমার ঘাড়ের কাছে। সেখানেও বিন্দু স্বেদ।

এত রাই আমি আলুথালু করি যে ক্ষণে ক্ষণেই স্বেদ জমে। এক দ্বৈততা কিভাবে সংযুক্ত হয় শুধু অঙ্গবোধেই! আদপে শুধু তো অঙ্গযোগ নয়; গ্রন্থিযোগ; গ্রন্থিবন্ধন। 



ভ্রম; আমি একে এক অক্ষে রেখে রাইকে অক্ষবিন্দু ধরি। আমি অন্য অক্ষে। যত আমি গেছি সময়ের সাথে, ভ্রম ততো বেড়ে উঠেছে। ​একদিন​ শুধু মাথাভর্তি ভ্রম নিয়ে দেখি রাই স্থির বিন্দুবৎ; আমি বিশাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আর ভ্রম আমায় সম্পূর্ণ আছন্ন করে নিচ্ছে।

কী চূড়ান্ত অনিবার্যতা! অসহায়ের মত শুধু ফিল্ করছি প্রতিফলিত রাইকে। কোনো বিম্বসদৃশ রাই চোখের সামনে। আমি তাকে যেভাবেই ভাবছি সেভাবেই, ততটাই রাইবিম্ব আমি গুনে যাচ্ছি।

ভ্রম নিরাকার; সাকার রাই আমি আর পাই না। ভ্রূ-ভঙ্গি, আর্তি, ক্লান্তি, চিৎ-উপুড়, গ্রীবা-নাভি-যোনি-রোম-সব মিলে এক অসদ রাই ঘরময়। আমার প্রতিটি ক্রিয়া ঘটে চলেছে যে রাই এর ওপর তা শুধু আমারই ভ্রমশার্শিতে ফুটে থাকা এক বিম্ব বই আর কিছু নয়।



না, ভ্রান্তি নিয়ে এভাবে চলা যায় না। এদিকে টের পাচ্ছি রবিশঙ্কর গৎ থেকে চলে এসেছেন ঝালায়। ভ্রমতাড়িত আমি তন্দ্রা ভেঙে সজোেরে ঢুকে যাচ্ছি রাই এর ভেতর। মায়ার ভেতর…



রচনাকাল: ২০০৯

বই: কলকাতা ব্লুজ, জুলাই, ২০০৯


No comments:

Post a Comment