অগাস্টের প্রেম, যখন জন্মমাস # ২০০৮

হারবার। ওঃ, মদে-মাংসে হিক্কা হিক্কা হুল্লোড় যখন কিনা মোহনার কাছে দেখি গাঢ় লঞ্চ ছেড়ে যায়! সাথে আমার সাগরিকা; যেন ডুমো ডুমো ঢেউ খেলছে তার গতরে।

কীভাবে যে পেলুম আড়াইশো কড়কড়ে নোটে ডাবল বেড আর ধার করা সুরক্ষা তা বিশদে আর নাই বা হল।

ওতো প্রথম, এই এভাবে চলে এল হীরা বন্দর; আমিও শুনেছি সেথায় নাকি ঘর পাওয়া যায় মানে বন্ধ চার দেওয়াল আর কি। প্রথম তো আমিও এভাবে মোহনার কাছে যেখানে বেনফিশ আড়ত হয়েছে গো।

যখন তারাতলা, তখন কি কাঁপল হৃদ-নাভি-পদ্মভাঁজ? আর রোদ সব নিভে এসে বৃষ্টি, মানে মেজাজে যেন আবগারি ছোঁয়া।

এটুকুই ছিল আমাদের হীরা বন্দর। সামান্য কিছুক্ষণ, ঘন প্রশ্বাস, আধো শীৎকার আর গতর মোড়ানো সোহাগ।

এরপর যেন চোখে জল; যেন বিষাদ সানাই ভাসে মফস্বলি স্টেশনে আর ঠুংঠুং রিকাশায় ফুরিয়ে যায় আমার ক্লান্ত-গভীর কলকাতা সফরখানি। 


তো যে কথা হচ্ছিল; ওই হীরা বন্দর। আমি এক বিপন্ন জাহাজ এসে নোঙর গাঁথি আর সাগরিকা তো ছোট্ট খরগোশছানা, ধিনধিন উৎসাহে কাঁধে-বুকে মুখ ঘষে। 

‘আরে ছাড় ছাড়, মাস্তুলে চড়ছিস যে একেবারে!’ কিন্তু কে কার কথা শোনে। ও ততক্ষণে অনেকখানি উঠে পড়েছে আর খিলখিলিয়ে হাসছে গোটা গতর নাড়িয়ে। ‘থাক তবে ওপরেই থাক।’ 

সে কি শুধু চড়েই ছাড়ল! তারপর শুরু হল কোমর খেলানো; আর তার তালে তালে আমিও দীর্ঘ তিনবছর পর এত অপূর্ব সঙ্গম যে হড়হড় করে ঢাললাম; যেন শরীরের কল খুলে গেল আর ওর তো মাখামাখি অবস্থা। তবু কি ছাড়ে, ফের দেখি মাস্তুলে চড়ছে...


মোহনার নোনা হাওয়া এত আমিষ তুলছে যে বাসস্টপেও আমরা আলতো ছুঁয়ে নিচ্ছি এ ওর ত্বক-রোম। বুনো বুনো চড়া পড়ে আছে বাসি হৃদয়ে। তবু তো হৃদয় হোক না হা ক্লান্ত। দীর্ঘ রোগভোগের পর যেমন একটু হাওয়া বদল হয় এও তো তেমন গ্রন্থিবদল। তা ক্ষরণের চেয়ে আরামের আর কীই বা হতে পারে!



সুধীজন যেন বা আড়চোখে বেহদ্দ ভেবে গেল আমাদের, কিন্তু আমাদের ঘামে জেনো নুন আছে খুব। না হলে এখনও এত আমোদ কিসের যখন হু হু ভেসে গেছে বাসা বাঁধার স্বপ্ন আর গর্ভধারণের এত প্রবল অনিচ্ছায় গুটিয়ে আসছে সাগরিকা! একি শুধুই পলায়ন, না অনির্বচনীয় যাপন বলিয়া স্বীকৃত হবে, একদিন!


পর্দা টেনে নেওয়ার ভান ভব্য সমাজের সামনে। এরপর নিভৃত ঘনিষ্ঠতা। সাক্ষ্য মিলবে না এ উষ্ণতার, কারণ এ লাজ, এ কাঙ্খিত নিবিড়তা।

আমি আমার সমস্ত বিন্দু জড়ো করে ফের এসেছি সাধনপীঠে আর সাগরিকা যেন মেলে ধরল খোলাপাতা; একটি আঁচড় শুধু বাকি।

অতএব, যাবতীয় বিধিসম্মত সতর্কীকরণ ছুঁড়ে ফেলে আমিও আদিম, আদম, হে প্রভু!

এরপর চিলেকোঠা ঘরে দোর আর অনাবিল শাবল ওই সাগরিকায়। যেন ঝমঝম সোহাগে ধুয়ে যায় দু-দুটো উদোম শরীর…



রচনাকাল: ২০০৮

বই: কলকাতা ব্লুজ, জুলাই, ২০০৯


No comments:

Post a Comment