ইদানীং এইসব # ২০১২

'হাঃ শৈশব', 'হাঃ শৈশব' বাতিক আমার কোনোদিনই ছিল না। না তো অতীত গৌরব আঁকড়ে বাঁচার অভ্যাস। আমার কাছে আজকের এভাবে কেটে যাওয়া সময়টা বা কাটিয়ে ফেলা সময়টাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্ন কোনো আক্ষেপ বা স্বপ্ন নয়।  

এখন একটা নির্জনতা আছে। সময়টুকুর মধ্যে। মানে যেটুকু নিজের। আগে এটুকুতেও আনাগোনা-ঘোরাফেরা-উকিঝুঁকি ছিল। অন্যের। হতে পারে তারা বন্ধু অথবা স্বজন। কিন্তু দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে পড়তে পারি জানলেও অথবা পারার অধিকারটুকু আছে জানলেও একবার নক্ করা যে প্রয়োজন এ বোধ কারো কারো নেই অথবা মাত্র কারো কারোরই এই বোধটুকু আছে। সামান্য অবশিষ্ট।  

নিয়মমাফিক অনেক কিছুই পারফর্ম করতে হয়। করে যেতে হয়। আবার কখনও কখনও তাতে ছেদও পড়ে। নিয়ম বিচ্যুতি ঘটে। প্রতিদিনের অফিস-মিটিং-অ্যাপয়ন্টমেন্ট সবই তথ্য ও প্রযুক্তিগত কারণে, আমার। আর এই ডেইলি স্কেডিউলে সর্বদা এথিক্যাল থাকতে পছন্দ করি। যেমন পছন্দ করি না মোর‍্যাল থাকতে। আর আশ্চর্য হয়ে দেখি কতটা নির্ভরতা থেকে যায় এই মিশেলে। অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তি ও তার সুব্যবহারের জন্য উপযুক্ত এথিক্স। প্রসঙ্গত আমার সাম্প্রতিক যে কোনো যোগাযোগ তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তি পরায়ণ। ভাবলে 'ইশ!' বলতে ইচ্ছা হয়।  

প্রায়শই এখন এক একান্ত সময় আসে। নিয়মমাফিক। সন্ধ্যের পর। এক একক মদ্যপানের আসর। অন্ধকারে একটা রেশ রাখার মত কোনো যন্ত্রসংগীত শুনতে শুনতে আমি স্নায়ুগুলো স্রেফ ছেড়ে রেখে বসে থাকি। আমার ঘরে। প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের মতো। বেশ লক্ষ্য করেছি এক্ষেত্রে কখনওই আমার মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান ঘটেনি। প্রতিবার মাপমত। ঠিকঠাক। দুই কি আড়াই। কচ্চিৎ তিন পেগ। মাত্র। সবচেয়ে স্বছন্দ এই আসরেই, আমি এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। মার্জিত ও রুচিশীল, ফলতঃ। 

আপাতদৃষ্টিতে সাম্প্রতিক জীবনপ্রণালী সুস্থির ও নিত্যনৈমিত্তিক। দৈনন্দিন টুকিটাকিতে ভরা। কিন্তু অনেক সময়ই তবু ঘিলু অন্যত্র সজাগ থাকে। সংবেদনশীল থাকে। গ্রন্থিক্ষরণ ঘটে; এই প্রাত্যহিকিতেও। আসলে স্থিতিশীল অবস্থা একটি ভ্রান্ত ধারণা। চোরাস্রোতের মতই অভ্যন্তরে কোনো বিক্রিয়া ঘটে চলে। অগোচরে। প্রতিনিয়ত। ফলতঃ অবস্থান্তর ঘটে। একসময়। সুতরাং হাত-পা গুটিয়ে নিলেও স্থবির থাকা যাচ্ছে না কারণ ক্রিয়াহীন থাকা সম্ভবপর হচ্ছে না। অবচেতনে যেকোনো ক্রিয়াই সংঘটিত হতে পারে এবং হতেও থাকে। অবিরাম; যা প্রকৃত। বাস্তবে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে মাত্র। আবার সর্বক্ষেত্রে বহিঃপ্রকাশ নাও ঘটতে পারে। সুতরাং আমি ক্রিয়ারত, সর্বদা।  

একজনই মাত্র আজ অবশিষ্ট আমার বাড়িতে ব্যক্তিগত আড্ডায়। দ্বৈপায়ন। সেলস্ এক্সিকিউটিভ্। ইনটেলিজেন্ট। প্রো-অ্যাকটিভ। শ্রুড। পোলিশড। ডিপলোম্যাটিক এবং প্রয়োজনে লায়ার। এক কথায় সুযোগ্য এবং অপরিহার্য। মদ্যপান ওর সাথেই, ইদানীং। কর্মপরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নও। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত কথা নেই। প্রয়োজনও নেই। কারণ সবিশেষ যে গদগদ ব্যক্তিগত বিষয় আশয় তার অনেকটাই আজ অপ্রয়োজনীয় ও পরিহারযোগ্য। এরকমই আমরা মনে করি। সময়টাকে রঙিন রাখা ও কিছু কাজকর্ম ভাগাভাগি করে নেওয়া ছাড়া অন্য বিশেষ কোনো স্বার্থও এক্ষেত্রে নেই এবং অবশ্যই যেটুকু রং ধরে রাখতেই হয় তা আমরা এই সময়পর্বে উজ্জ্বলভাবে ধরে রাখতে পারছি। প্রসঙ্গত আমরা হেটেরোসে্কসুয়াল এবং প্রতিবেশী। আমাদের দারুখানাগুলি মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতায়। নির্দিষ্ট। অনিয়মিত। উইকেন্ডগুলো এভাবেই কেটে যাচ্ছে আমাদের। মদ ও মাংসে। মৌজ ও মস্তিতে। মদ-মাংস বা মৌজ-মস্তি বা আমি-দ্বৈপায়ন এর যেকোনো একটি জোড়ের নামকরণ করা হল 'ফুর্তি'। 

খুব ভালো করে ভেবে দেখেছি আমার চারপাশের পরিবেশ-ঘটনা-মানুষ সর্বক্ষেত্রেই আমি শুধু অ্যাকসেপ্ট বা রিজেক্ট করতে পারি যা একপ্রকার রিফ্লেক্স অ্যাকশন বা প্রতিক্রিয়া। আবার রিজেশনটাও প্রকারান্তরে অ্যাক্সেপ্টেন্স। কোনো কিছুকে রিজেক্ট করার মানে তার ভেতর এমন কোনো একটা বিশেষ ক্যারেক্টারিস্টিক আছে যা প্রথমত আমায় অ্যাক্সেপ্ট করতে হচ্ছে এবং দ্বিতীয়ত তা আমার ভিতর একপ্রকার রিপালসিভ্ ফোর্স তৈরী করছে। ফলস্বরূপ আমার নিতান্ত এক মামুলি বহিঃপ্রকাশ: রিজেকশন। এক্ষেত্রে আমি শুধু এক উত্তম প্রতিফলক, মাত্র। 


বছর দুয়েক আগের একটা লেখার নকশা: 

তত্ত্ব গুঢ়কথা এসব তোরঙ্গে ভরে ফেলি 

শুধু অঙ্গ ও স্পর্শ নিয়ে বেঁচে থাকি 

কোলাহল করি 

আক্ষরিক অর্থেই সত্য। প্রযুক্তিবিদ্যার ক্লাশেই সামান্য যেটুকু আমার তত্ত্বজ্ঞান। নেহাত রোজগারের তাগিদেই। আর সেই আশ্রম স্কুলের বেদান্ত সংক্রান্ত তত্ত্বকথা। তাও স্রেফ ফেল করার ভয়ে। এর বাইরে আর কোনো তত্ত্ব আহরণ আমার হল না। নষ্ট করার মত সময় আমি বিশেষ পাইনি। হয়তো সাম্প্রতিককালের ইঁদুরদৌড়ই তার কারণ অথবা আমার অনাগ্রহ, আর আমার কখনো কোনো ফেলোশিপ দরকার ছিল না। না তো তা ভাঙিয়ে কোনো গ্রান্ট। অর্থাৎ মেধাগত ভাবে তত্ত্ববাগীশ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আমি কোনোদিনই উপলব্ধি করিনি; বরং আমি স্রেফ অঙ্গ ও স্পর্শ। স্রেফ কোলাহল। এককথায় প্রবৃত্তিতে বেঁচে আছি। ইদানীং।


যা যা আমার এই মুহুর্তের ভালোলাগা-পছন্দ-প্রিয় তার একটা তালিকা তৈরী করছি। শুধুমাত্র পরে কোন কোন গুলো এর মধ্যে থেকে বাদ পড়ে তা প্রত্যক্ষ করার জন্য: 

১। বলিউডের সিনেমা (কমেডি ও অ্যাকশন) 

২। ইরোটিক সিনেমা (ভিনটেজ) 

৩। একক মদ্যপান (যন্ত্রসংগীত সহযোগে) 

৪। কালো কফি (কম চিনি) 

৫। শিলাজিৎ মজুমদারের লিরিক (শব্দশরীর, লিরিক সংকলন, অভিযান পাবলিশার্স) 

৬। কালো জামা ও নীল জিন্স (সঙ্গে কালো স্নিকারস্) 

৭। বাদামভাজা সাথে ভিনিগারে চোবানো আদা ও কাঁচালঙ্কা (মদের চাট) 

৮। অনন্যা চ্যাটার্জীর অভিনয় (সুবর্ণলতা, টেলি-সিরিয়াল) 

৯। শীতকালে রাম (ডার্ক) 

১০। আমার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য (আড়ালে) 


সর্ব রকম ভাবে এইসবই গত দুই বছরে আমার ভালোলাগা। ভালোবাসা বললেও বা আটকাচ্ছে কে! এটা আমার ব্যক্তিগত তালিকা। পূর্ণত। প্রসঙ্গত তালিকাভুক্ত কোনো বিষয় যদি অন্য কারো ভালোলাগা বা পছন্দ হয়েও থাকে তথাপি এই তালিকা সমষ্টিগত নয়। ব্যক্তি 'আমি'র মতই ব্যক্তিগত। সর্বোতভাবে। 


রচনাকাল: ২০১২

মিনিবুক: এই চলছে, জানুয়ারি, ২০১৩


No comments:

Post a Comment