নভেম্বর, বৃষ্টি ও জ্বর
আস্ত নিরাসক্ত একটা দিন
কেমন জ্বরমন জ্বরশরীর করে
পুরনো আসবাব
আর
গায়ের জড়ানো দলা পাকানো চাদরে
খারাপ আর উষ্ণতা নিয়ে
জেগে বসে
ঘুম
পাড়িযে রাখছে...
ঝিরঝির গুঁড়িমারা বৃষ্টিতে
চায়ের গেলাস
মিয়ানো বাসি চা-টুকু নিয়ে
ছুটির দিন টপকে
রাত বিয়ানো দেখছে...
একটা লম্বা নভেম্বর মাস
পড়ে অছে দিন দিন
প্রতিদিন করে
অথবা
রাত রাত প্রতিরাত করে
আমার মনে থেকে যাচ্ছে
মাস পয়লা পে-স্লিপের মতো
নিয়মমাফিক ইএমআই
বা বাউন্স করা চেকের মতোই
আসলে অভ্যস্ত হতে হতে
বেঁকেচুরে একবারে স্রেফ
আলসেমিটুকু আর নিত্যকর্ম
নিয়েই আমার এই
জীবনপ্রনালী
ক্রমশঃ রঙিন ও উজ্জ্বল হয়ে
ছটফট
করে যাবে...
ডোরাকাটা আমার এই বিছানায়
রামের ম ম তে
লেগে থাকে শুকনো বীর্যতে
খসে পড়া মাথার চুলে
এমনকি একটা দুটো আলগা
বালেও
যাতে সিগারেটপোড়া ছাই
সাপ্টে ধরেছে
শুয়ে শুয়ে এখন
বেশ টের পাচ্ছি
আমার
দলা পাকানো কফ আর
বাইরে
ফোঁটা বৃষ্টির শব্দ...
ফাঁক হওয়া দরজ দিয়ে
সিরিয়ালের আলগা টেলি -আবহ
মিহি চাপা চাপা স্বর
একটা দুটো বাসন-কোসন পড়ে যাওয়ার শব্দ
ঝনঝন করে
মাথাটা
এলিয়ে দেওয়া গেল
কোনো মাপজোখ ছাড়াই
একমুখ কাফ-সিরাপ
অবলীলায়
মনে পড়ে যাচ্ছে সেইসব রাত
গলিগালার ভেতর
ঝমঝম বৃষ্টিতে
যখন উবু হয়ে বয়া হাঁটু মুড়েও
মুখ তুলে কোনো অসহায়তা
জানিয়েছিলাম
ডিপ চিরে ফালাফালা
হয়ে গিয়েও
মায়াময় ওমের স্পর্শ পাইনি
নাতো
মায়াময় ওমের স্পর্শ পাইনি
নাতো
কোনো নোনা চেনা স্বাদ
পরিচিত পুরনো সেই গন্ধ
পরিচিত পুরনো সেই গন্ধ
শেষমেষ হাত তুলে
ওইসব গলিগালা ছেড়ে
হাঁ আকাশের থেকে
মুখ ঘুরিয়ে
ফের বেরিয়ে এসেছিলামমাথা ভর্তি
গমগম
মদের
দেদার মৌজ ও মস্তি নিয়ে
দেদার মৌজ ও মস্তি নিয়ে
কখনো রাত হয়ে এলে
গুঁড়ি বৃষ্টির শব্দে
পর্দার ফাঁক দিযে
গুঁড়ি বৃষ্টির শব্দে
পর্দার ফাঁক দিযে
জোরালো
আলোর
আলোর
ঝলকানিতে
আমার সেইসব শ্বাসবন্ধ
আমার সেইসব শ্বাসবন্ধ
অথচ
হাতাগোটানো জিপনামানো
রাতের কথা মনে আসতে থাকে
হাতাগোটানো জিপনামানো
রাতের কথা মনে আসতে থাকে
ভাঙচুর
ব্যক্তিগত কোনো কিছু লিখে ফেলাটাই খুব বিপজ্জনক
যেমন এসময়ের বেঁচে থাকা
অন্ত্রের মধ্যে পাক খায় এক শূন্যতা
মস্তিষ্কের মধ্যে ছটফটানি
নির্ঘুম রাত কেটে যায়
এখন এক বাসা আছে
ভালো করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিলেই ঘর
তবু বেখাপ্পা মন পোষ মানে না
ঘরবন্দি হওয়া গেল না
ভালোবাসা কোনো অমোঘ সত্য নয় জেনে
ক্রমশঃ ফুরিয়ে আসছে ভালোবাসার ক্ষমতা
ব্যক্তিগত কোনো কিছু লিখে ফেলাটাই খুব বিপজ্জনক
যেমন এসময়ের বেঁচে থাকা
অন্ত্রের মধ্যে পাক খায় এক শূন্যতা
মস্তিষ্কের মধ্যে ছটফটানি
নির্ঘুম রাত কেটে যায়
এখন এক বাসা আছে
ভালো করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিলেই ঘর
তবু বেখাপ্পা মন পোষ মানে না
ঘরবন্দি হওয়া গেল না
ভালোবাসা কোনো অমোঘ সত্য নয় জেনে
ক্রমশঃ ফুরিয়ে আসছে ভালোবাসার ক্ষমতা
কতবার মাঝরাতে ঘুম ভেঙে দেখেছি প্রিয়মুখ
অকাতরে ঘুমিয়ে আছে সোহাগের মানুষী
সেসব রাতের কথা লিখে রাখা হয়নি কখনো
বলে ওঠাও তো হয়নি!
চূড়ান্ত আবেগ নিয়ে বেঁচে থাকা ছিল একদিন
একে একে সমস্ত আবেগের থেকে সরে আসা গেল
কিন্তু মায়া গেল কই!
আমি সারাদিন ধরে জড়ো করছি আলো
রাতের অন্ধকারে জ্বেলে রাখব বলে
২.
অকাতরে ঘুমিয়ে আছে সোহাগের মানুষী
সেসব রাতের কথা লিখে রাখা হয়নি কখনো
বলে ওঠাও তো হয়নি!
চূড়ান্ত আবেগ নিয়ে বেঁচে থাকা ছিল একদিন
একে একে সমস্ত আবেগের থেকে সরে আসা গেল
কিন্তু মায়া গেল কই!
আমি সারাদিন ধরে জড়ো করছি আলো
রাতের অন্ধকারে জ্বেলে রাখব বলে
ঘোর
গানের কোন সুর
শান্ত নেমে আসে পীড়ায়
আর ভাষাগুণ
ঘিলুর চেয়ে সংবেদনশীল
আমাদের যন্ত্রাংশ নয়
চামড়ায় এঁকে রাখা নামের কুসুম
নাভি থেকে কোনো ওঙ্কার
সুরম্য ঘুম ভেঙে এই আহত সকাল
যখন শার্শিতে ভেঙে যায়
নন্দন কোলাজ
না বলা কথারা ছটফট করছে
মায়া রয়ে যায় সমূহ আবেশে
কেহ কাহারো নহে - এমত শুরুয়াৎ হয়ে ছিল বটে
এখন কি এক মোহ ঘিরে ধরে
মুন্ডিত মস্তক আমি এক ছিলিমিক ঘোরে
বেবাক বসে আছি বিজ্ঞ তরলের কাছে
মাল্লার গানে গানে যে খুড়ি ভরে উঠছে
তা ওই তো ধেনো
আঁশের রূপালি ধরেছে ভুবনময়
ক্লান্ত কলরব নিগূঢ় সহ্যের কাছে
অনন্ত হামাগুড়ি আজ
মধ্যরাত জুড়ে
মেছো গ্রাম জুড়ে এই আমিষ ভুবন
প্রথমজন, যার আলোজন্ম,
এ ভুবনের দখলদার
দ্বিতীয়জন, তার উরুভাঁজে আলোমনি
ঘ্রাণ নিচ্ছে এ ওর, ও ওর
সজাগ শরীরের ওঠানামা
মৃদু শ্বাস, মোহ শীৎকার
চাকা চাকা চামড়ায় ঘামের দানা
এভাবে সুরম্য সৈকতাবাসে আজ
গোপন ভাবে অঙ্গের কাছে যাই
অক্ষবিন্দু দেখে দেখে
বিম্ব-শার্শি প্রভৃতি বোধ কাজ করে
তার লক্ষণগুলি ফুটে ওঠে ত্বকে
স্পষ্ট ও অনুভবযোগ্য
তত্ত্ব-গূঢ়কথা এসব তোরঙ্গে ভরে ফেলি
কেবল অঙ্গ ও স্পর্শ নিয়ে বেঁচে থাকি
কোলাহল করি
মনে আছে ফরাসি শেখার ইস্কুল
মনে আছে বেকবাগান
ওখানে ফয়েলে জাগে
তিলোত্তমা সকাল
মনে আছে বেকবাগান
ওখানে ফয়েলে জাগে
তিলোত্তমা সকাল
১.
ঋজু এক ফাদার মনে পড়ে
ঋজু এক ফাদার মনে পড়ে
বৃষ্টির গির্জায়
আর এক ম্যাজিক
বনধের রাস্তায়
জকিরা ফিরে গেছে যে যার তাঁবুতে
এক বাঁক ঘুরে ধুলোর গন্ধ
ঘুম নিয়ে চলে গেছে ট্রামগাড়ি
বিষন্ন বিজয় জেগে আছে
মিনারের গায়ে
২.
'ক্রীড়া ক্রীড়া' সেই ডাক
আর ফালি চাঁদ উঠে এল রেখায়
বাকী অংশ আছে জরুলচিহ্নে
এমত বনেদী বাড়িতে ঘোর
যেন বা আরামকেদারা
ওখানে যে চিলে
তাতে কোঠা তুলে কেউ
আশৈশব যত বিরল অণু
তার ক্রম দেখছে
আর নুন ধরে ভিজে আছে
পুরোনো তোষক
৩.
ঘোর তন্দ্রায় জেগে আছে মালগাড়ি
ট্র্যাকে রয়েছে আমারই ডেনিম
আমারই ব্লুজ
তুমিও তো দেখেছ নুনজলে
কেমন ইস্পাত ভিজে যায়
ওইখানে ঝরে যায় অদম্য বসন্ত
ওইখানে উল্লাস ভেঙে যায়
শিড়দাঁড়া বারাবর
ওইখানে পড়ে আছে গৈরিক বাঁশি
পঞ্চমুখ আর বিষণ্ণ তামাক







No comments:
Post a Comment