ব্যাঙ্গালোর জার্নাল​ # অক্টোবর​ - নভেম্বর, ২০১৯






বুয়েনস আইরেস ছেড়ে বাঙ্গালোর​
আবারও প্রবাস
শহর থেকে শহর ঘুরে
ব​ড় ব​ড় সব বিল্ডিং বদলে বদলে
বেঁচে থাকার এই সামান্য কারিগরি
খানিক ছল ও চাতুরী
আজকাল এসবই আমার​
নিজের মনে হ​য়​
শহর​, বিল্ডিং, কারিগরি, ছল​, চাতুরী

আর এই বেঁচে থাকা



শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে
এই মজার খেলাটা খেলে
কি লাভ​?
যদি তার কোনোটাই মগজে না গাঁথে
এর চেয়ে সোজাসুজি কথা
ঢের ভালো
মুখের ওপর সপাটে
শব্দ আছ​ড়ে প​ড়ার শব্দ​
বেশ লাগে আজকাল



জানলার বাইরে টুনিবাল্ব ঝুলিয়ে দিয়েছে
ওপরের ভাড়াটে
বেশ ভালো এই সকালটা
ল্যাদ খেয়ে কাটাবো
না মাংসটা কিনে এনে রান্না করে রাখাবো?
আজকাল পাঁয়তারা করে
কবিতা লিখি না আর​
গত ক​য়েক বছর আমি
নিজেকেই লিখি স্রেফ​
এই কেমন করে
শাকসব্জি-চাল-ডাল​-মশলা-মদ-মাংস​
জোগাড় করি আর​
কিভাবে কখনো কোথাও 

খানিক ভালোবাসা জুটে যায়



ফিকে নীল ধোঁয়ায় মশগুল হয়ে
জানলার ধারে চুপ করে বসে শুনি
উল্টোদিকের পার্ক থেকে
বাচ্চার হুল্লোড়​
কিচির মিচির চিরে দিয়ে
গাড়ির হর্ন​
উইকেট নেওয়ার উল্লাস জুড়ে একটানা 

ছেনি-হাতুড়ির শব্দ​
এভাবেই একটা অবসর দিন​
একলা নিজের সাথে বেশ লাগে
এঘর ওঘর ঘুরে আস্তে আস্তে
বিকেল নামে




বউ বা প্রেমিকার থেকে
দূরে থাকাই ভালো
একসাথে থাকলেই খিটির মিটির​
কখনওবা ব​ড়স​ড় বাওয়াল​
তার থেকে দূরে থাকি
দেখা হোক মাঝে সাঝে
হোক দারু টলমল​
আসলে দুর্মুখ ও অহংকারী আমি
কাছাকাছি থেকে ভেঙেছি
আগের সম্পর্ক সব​
এবার দূর থেকে ট্রাই মেরে দেখি




ঝিরঝিরে বৃষ্টি আজ
একটানা সকাল থেকে
দারুন লাগছিল বৃষ্টির টুংটাং
সেলুনের শেডটার নিচে
দেখলাম গাছ থেকে কৃষ্ণচূড়া
ঝরে ঝরে পড়ছে
উল্টোদিকে পার্ক করে রাখা
গাড়িটার শক্ত মেটাল শরীরে
মনে হ​য় রোজই প​ড়ে
দেখতে দেখতে 

একটা গোটা সিগারেট​ শেষ হ​য়ে গেল



মস্তি এসেছিল​
মস্তি আমার বন্ধু
ভালো নাম বৈভব​
আদি বাড়ি বেলগাছিয়ায়​
আমার সাথে এখানেই আলাপ​
ওরও কারবার কারিগরি নিয়ে
পাতা খেয়ে কাটিয়েছে বেশ কিছু বছর​
আমাকে শোনায় সেইসব দিনরাত্রির কথা
উদোম ও কালো




রেললাইনের ধারে
প্রবল তার্কি নিয়ে
মস্তি গেছিল
দুটো নোংরা পাতাখোরের সাথে
টিশার্ট, জিনস আর স্নিকার্স পরে
প্রবল ধুনকি
তে হুঁশ ছিল না তেমন​
কখন যে রাত গ​ড়িয়ে সকাল
হঠাৎ ঝমঝম শব্দে চোখ খুলে
সেদিন মৃত্যুকেই দেখেছিল​ বটে
নিমেষে শরীর ছুঁড়ে গ​ড়িয়ে পড়েছিল
লাইনের ধারে
পাশ দিয়ে রেলগাড়ি ঝমঝম
ঘোর কাটতেই বুঝেছিল​
ফুল ল্যাঙ্টো সে
টিশার্ট-জিনস-স্নিকার্স-জাঙ্গিয়া-ঘ​ড়ি-মোবাইল​
সব নিয়ে চলে গেছে 

দুই পাতাখোরে



দুবার বিয়ে মস্তির​
দুবারই ডিভোর্স​
প্রথমজন ছিল ওরই ইউসিং পার্টনার​
দ্বিতীয়জন ব​য়েসে বেশ কিছুটা ছোট​
তবে ওর প্রাক্তন বউদের সাথে
ওর সম্পর্ক মন্দ ন​য় মোটেই
প্রাক্তন প্রথম বউয়ের সাথে অছে
ফোনালাপ
আর​ এই তো সেদিন ডিভোর্সের পরপরই
দেখা করে এল
ওর প্রাক্তন দ্বিতীয় বউয়ের সাথে
তার চাকরি সংক্রান্ত কি এক উপকার করে নাকি
শুয়েও এল একবার



১০
সেদিন বিকেলে
বেশ নেশা করে
আয়নার দিকে চেয়ে
মস্তি বলল​: নেশা করলেই শালা
আমার বাঁ চোখটা কেমন ট্যারা হ​য়ে যায়​
আর অমার মা 

এটা দেখেই ধরে ফেলে, জানিস!
মনে মনে বললাম: কি আর করবি?
সানগ্লাশ প​ড়ে নে



১১
মুদির দোকান ঘুরে গলির মুখে এসে
ধুনকিটা ছিঁড়ে গেল​
বিশ্রী ড্রিলিং এর শব্দে
বাড়ির সামনেটায় দুটো বাচ্চা ছেলে-মেয়ে
হাঁটু গেড়ে উৎসাহে বসেছে
তুবড়ি জ্বালাবে বলে
ভাবলাম দেখে যাব​
তুব​ড়ির অলো
তুব​ড়ি জ্বালাতে গিয়ে
অসাবধানে মেয়েটার হাত থেকে
প​ড়ে গেল দেশলাই কাঠিগুলো সব​
একটা দুটো করে কাঠি কুড়িয়ে
বাক্সে ভরতে ভরতে
আমি সিঁড়ি ভেঙে উঠে গেলাম ওপরে
তুব​ড়ির আলো দেখা 

হল না আর


১২
ক্রাইস্ট ইউনিভার্সিটির পাশে
একটা বেশ ব​ড় আর উঁচু পাথর 
তার ওপর দেবদেবীর ছোট ছোট মুর্তি
পেছনে মন্দির 
সামনের ফুটপাথ দিয়ে
দুজন মুসলিম ভদ্রলোক​
গল্প করতে করতে হাসতে হাসতে
হেঁটে যাচ্ছে
একটু এগিয়েই উড়ালপুল
তার নিচে দুধারে 
বড় ব​ড় সারি সারি গাছ​
কোনো কোনোটায় ফুল ধরেছে কমলা
এক সকাল ধুনকিতে 
স্কুটারের পেছনে বসে
এইসব দেখতে দেখতে
পৌছে গেলাম সরকারি অফিস​
আজ অমার আধার কার্ড 
অ্য়াপ্লাই করার দিন

No comments:

Post a Comment