রাতের নিশান থেকে তুলে নাও অপরাধনামা।
এ কেমন ভোর হল যখন বনাঞ্চল দিয়েছে পাড়ি! হাতের পাঁচ আঙুল একত্রিত হতে চাইছে আর অন্য এক না-বলা কথামালার অন্তর্বর্তী ফাঁক-ফোকর থেকে চরিত্রায়ন হচ্ছে আমার:
চলমান যা কিছু তার থেকে তৎপরতা ক্রমশঃ কমছে আর ফলন্ত বাগান ছেড়ে উড়ে যাব একদিন। বোবা কান্নায় টোল পড়ছে গালে আর স্নায়ু-মজ্জায় এই যে স্রোত যা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমার ঘর-বারান্দা-শরীর আরও কত কী…এই কি তবে ছিল জন্মগত!
ব্রিজ আর রেলগাড়ি স্বপ্ন সমান্তরালে গুটিয়ে যায়। নেশার আদিমতায় বলো সখি বসন্তের কথা। কথার খেলা চালাও নির্জনে। চলে যাচ্ছে ফেরিঘাটের লঞ্চ। ঈষৎ ওম পাচ্ছি বাসি হয়ে যাওয়া হৃদয়ের।
পড়ে আছে নিঃসঙ্গ হাড়মাস। দাঁত বসাই নিভৃতে নিজেরই মাংসে। খুলে যাচ্ছে পাঠশালা। আমাদের আরামের খালাসিটোলা। তরল কমে আসাতেই কী মারাত্মক ক্ষরণ মস্তিষ্ক জুড়ে! শূন্যে শূন্যে ট্র্যাপিজগন্ধ থেকে কাঁদছে নশ্বর শরীর।
শ্মশান-গঙ্গার ঘাট-বহু পুরনো বাড়ি থেকে এক অপার নৈঃশব্দ ভেসে আসছে আর অলিগলি পাকস্থলীর মধ্যে থেকে আমার আহ্নিক হয়ে ফিরে ফিরে আসছে কারও কারও যৌনস্বর। লাগামহীন ঘোড়ার মতো ছুটে চলেছি আর বিড়বিড় বৃষ্টিমন্ত্র…এ নশ্বর দেহ নাশ হলে জেনো: গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে লেখা রবে শবের সবটুকু।
রচনাকাল: ২০০৭
এই লেখার অংশবিশেষ ছাপা হয়েছিল ‘কলকাতা ব্লুজ’ বইয়ের চতুর্থ মলাটে
No comments:
Post a Comment