কবিতা # অক্টোবর, ২০২০ - জুন, ২০২২

 

ধুনকিতে ওড়া স্মৃতিকণা


অল্পব​য়সী প্রেমিকার সাথে হেঁটে আসা
সেদিনের সেই বিকেলটা
আজ স্মৃতি হয়ে পড়ে আছে বুয়নেস আইরেসে
পালেরমো থেকে রেকোলেতা সেদিন
খুশি খুশি হেঁটে আসা যেত​
বিকেলের রোদ মেখে কাঁধে

আজকাল অন্যরকম
অটো আর নীল একটা ধুনকি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি
ব্যাঙ্গালোরের রাজপথে, সপ্তমীর সকালে
এই ডিজিটাল মায়া ভেদ করে যাচ্ছি ভারতীয় পোস্ট আপিস
পুরনো ঠিকানায় পৌঁছানো কোনো জরুরি নথি
পেতে হবে হাতে

বহুদিন আগে
কলকাতা ম​য়দান জুড়ে নেমে আসা সেই সন্ধেটা
মনে হ​য় আজও থম মেরে বসে আছে
অন্ধকারে আমাকে আবার জ​ড়িয়ে ধরবে বলে




অহল্যা


উফ্! অহল্যা, কী শরীর তোমার​!

তোমার প্রতিটি পেশীর এই ওঠানামা
আমি প্রত্যক্ষ করছি
হাঁফাতে হাঁফাতে স্রেফ্
যখন কব্জি তুলে মুছে নিচ্ছি মুখের এই ঘাম

তুমি কেন এমন পাষাণ বসেছিলে,
কোনো অমৃতপুরুষের অপেক্ষায়!

যদি তুমি না জাগো নিজে থেকে
কোনো বৈভব-পুরুষ কি পারে
তোমায় জাগাতে!
পারে কি বাঁধতে গ্রন্থিতে গ্রন্থি!

উফ্! অহল্যা, তুমি কী আশ্চর্য
জাগালে এই স্থবির, পাথর আমায়!

শুনে রাখো হে, পাষাণহৃদ​য়িনী,
পাথরে পাথর ঠুকলে তবেই জ্বলে
সন্ধ্যাপিদিম, অঙ্গার ইত্যাদি

প্রতিযোগিতায় নেই


হুইশেল বেজে গেলে কিংবা
আকাশে শূন্যগুলি ছুঁড়ে দিলে
আর কীই-বা প​ড়ে থাকে
ট্র্যাক আর টার্গেট ছাড়া

তবে ট্র্যাকের দুধারেই প​ড়ে থাকে
খোলা জমি খানিক​
ডাঁয়ে কিংবা বাঁয়ে

তুমি ফোকাস করো টার্গেটে
খেয়ালে রাখো ট্র্যাক​
ওহে, দৌড়বিদ

আমি বরং ডিসকোয়ালিফায়েড
খানিক পায়চারী করে নি
ট্র্যাকের বাইরে খোলা জমিতে
ডাঁয়ে কিংবা বাঁয়ে

আকাশ যাকে জানে
মুক্তাঞ্চল বলে

ঘরবাড়ি


চমৎকার বাঁধানো উঠোন
একপাশে পাতকুয়া
অন্যপাশে তুলসীতলা
যাকে পৈতৃক বাড়ি বলে জানি

সন্ধ্যাস্নান সেরে ওই তো ঠাকুরমা
কাচা শাড়ি, যতদূর মনে প​ড়ে
কাঁচুলি-ব্লাউজবিহীন
কী কোমল এক হলুদ শিখা আগলে
শান্ত পিদিম জ্বেলে দিল
সুরটানা রোজের মঙ্গলসূচনায়

ধূর, এ সবই এক নেশার ঘোরে ভ্রম

দু-তিন দিক থেকে এসে প​ড়া
উষ্ণ আলোয় যেটুকু উজ্বল পরিধি
আদপে আজকাল তাকেই তো
ঘরবাড়ি বলে জানি

মনশরীর


যখন কোনো শরীর স্পর্শ করি
যেন মনকেই করি আলিঙ্গন

আদপে মন তো আর শরীরের বাইরে নয়
বরং ঘিলুই যেন স্রেফ
মাথার ভেতর আটকে

কেনই বা বেঁচে গেলে দমবন্ধ
ওহে, আটপৌরে
শুধু শরীর বাজি রেখে,
অন্ধকারে অধিকারবোধে
গুমরে মরে...

এসো হে, আজ মনের ভেতর মন ঢেলে দিই
সঙ্গমের ছলে

আমি


হ্যাঁ ঠিক যা বললেন আপনি তাইই আমার পরিচয় সংক্ষেপে যদিও ওটুকুই সব নয় আজও পাঞ্জা টানটান মুঠিও শক্ত না, ঘুষি মারার জন্য নয় মুখে কিংবা ওই বেল্টের নিচে বরং বাড়িয়ে দেওয়া কোনো হাত খপ করে ধরে নেব বলে মারতে গেলে জানুন মার খেতে হবে ঢের যেমন আমার চামড়ায় কালশিটে যত রড-বাঁশ-চেন-টালি-পাঞ্চার কিংবা কাটা দাগ ভাঙা বোতল কোনো বেহায়া জেদ আমার উদ্যমে তবু বারবার মাথা চারা দিয়ে ওঠে আঘাতে ফাটে মাথা জেদ তার থোড়াই করে কেয়ার!


Like
Comment
Share

No comments:

Post a Comment