নোপোলিয়ন বুঝতে পারল যে ভোর হয়ে আসছে এবং বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও একটা ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছে বাইরে...
প্রচণ্ড চাপা একটা কিছু, যেন একটা বিস্ফোরক আবার ঠেলে বেরোচ্ছে।
কোথায় যে ঠিক চাপ তা বুঝতে নেপো উঠে এল বিছানা থেকে। সাথে (ক) মানিব্যাগ, (খ) মোবাইল, (গ) দেশলাই ও (ঘ) একটা অল্পমূল্যের সিগারেট।
কেন যে এমন হল তা কিছুতেই বুঝতে পারছে না! এই কি তবে সেইসব বীভৎস হত্যা যা সে এতকাল শুনে এসেছে! নাকি অন্য কিছু। হতে পারে যেমন নববর্ষের প্রথম দিন, একটা পরবের মুখরতা। কিন্তু তাই কি!
আসলে 'নেপোলিয়ন'কে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল সেই যে দ্বীপ 'সেন্ট হেলেনা' না কি যেন নাম তা আজ নেপো ভোররাতে দেখেছে আর ভোররাতের স্বপ্ন সত্যি হয় বলেই ওর বিশ্বাস ও তদুপরি ভয়।
আঃ 'আজ শুভদিনে পিতারও ভবনে...' হল না, বরং নেপো বুঝল যে 'পিতা'ও আদপে এক প্রতিষ্ঠান মাত্র। এই যে সব রেসোল্যুশন তা ওর মাথায় ক্রমাগত ধাক্কা মারতে লাগল।
উফঃ কেন যে নেপো আজ রাত জাগল আর এই ভোর রাতের অল্প তন্দ্রা। নাঃ নেপোর বড় ভয় হতে শুরু করে।
পুরুষাঙ্গে জ্বালা; এমনকি সিফিলিস হওয়ার সম্ভবনা পর্যন্ত নেপোর মাথায় চাড়া দিল। যৌনতা সম্বন্ধে ওর এতদিনের গুঢ় ভাবনায় একটা অসঙ্গতি ও মাত্রার অভাব ওকে খুবই বিচলিত করে তুলল।
তবে কি নেপো অন্য কিছু করার কথা ভাববে? যেমন সর্বসম্মতিক্রমে এক আত্মহত্যা কিংবা রথের মেলায় আর একবার ছোটোবেলার মতো হারিয়ে যাওয়া।
কিন্তু এর কোনোটাই নেপো করে উঠতে পারল না।
'নেপোলিয়ন'কে সম্ভবত বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল এবং সম্ভবত ওনার চুলে সেই বিষ পাওয়া গিয়েছিল।
আর চুল যে একপ্রকার রেচন পদার্থ তা নেপো সেদিন থেকেই জানে।
আসলে নেপো কোনো স্বপ্ন দেখেনি। হয়তো দেখেছিল কোনো ফরাসি সিনেমা কিংবা হয়তো ময়দানে ফানুস ওড়ানোর দৃশ্য।
এখন নেপোকে দেখা যাচ্ছে অল্প জানলা খুলে ও একটা 'বঙ্গীয় নববর্ষে’র কথা ভাবছে। তখন প্রায় ভোর হয়ে আসছে এবং কোথাও কোনো হত্যার সম্ভাবনা না থাকলেও একটা ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছে বাইরে…
উল্লেখ্য, নেপোলিয়নকে আর্সেনিক বিষপ্রয়োগে মারা হয়েছিল- এই তত্ত্বটি একবিংশ শতাব্দীতে বহু ইতিহাসবিদ বাতিল করেছেন।
রচনাকালঃ ২০০৮
বইঃ নেপোলিয়নের নববর্ষ, জুলাই, ২০০৯
No comments:
Post a Comment